নিজেস্ব প্রতিবেদন:
নওগাঁর মান্দায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ও কয়েকটি স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলা হলেও এবার আড়াই মাস পর দানবাক্স খোলা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মসজিদের ১টি বড় ও ১৪টি ছোট দানবাক্স খোলা হয়। গণনা শেষে নগদ ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, ১টি সোনার চামচ, ৬টি সোনার নাকফুল, ১টি সোনার নথ (নাকের অলঙ্কার) ও ২টি সোনার পাতি পাওয়া যায়।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আখতার জাহান সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এবার আমরা আড়াই মাস পর দানবাক্স খুলেছি। দানবাক্সে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা পাওয়া গেছে।”
তিনি জানান, কুসুম্বা শাহী মসজিদে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসেন। অনেকেই মানত করেন এবং দানবাক্সে অর্থ প্রদান করেন। এসব দানের অর্থ দিয়ে মসজিদ চত্বরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, দানের অর্থে মহিলাদের জন্য উন্মুক্ত নামাজঘর, তাবারক প্রস্তুতের রান্নাঘরের সংস্কার, পরিচ্ছন্ন কসাইখানা নির্মাণ, দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের পাশে একটি ইসলামিক লাইব্রেরি ও কালচারাল রিসার্চ সেন্টার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। সেখানে কুসুম্বা শাহী মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদ সম্পর্কে তথ্য জানার সুযোগ থাকবে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে আগত দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ইবাদত, মানত ও দর্শন শেষে নিরাপদে ফিরে যেতে পারবেন।
দানবাক্স খোলা ও অর্থ গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম, মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলমসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।