শাব্বির আহমদ ,স্টাফ রিপোর্টার খুলনা
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের লবণচরা থানাধীন সাচিবুনিয়া এলাকার স্কুলভিটা এলাকায় মো. রাশেদ (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত রাশেদ খুলনা মহানগরের জিরোপয়েন্ট কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি আনিসুর কাজীর ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
লবণচরা থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন রাশেদ। এ সময় তিন থেকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলেও দুর্বৃত্তদের ভয়ে অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দিতে পারেননি।
পরে দুর্বৃত্তরা তাকে সাচিবুনিয়া এলাকার স্কুলভিটা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে রাশেদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও রাশেদের ওপর একাধিকবার হামলা ও হত্যার চেষ্টা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন