মোঃ সোহানুর রহমান
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উচ্ছেদ নোটিশ ও কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সরকারি জায়গায় পুনরায় ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ঈদুল আজহার ছুটির সুযোগে উপজেলার নূরুল্লাবাদ ইউনিয়নের জোতবাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় টিনের আড়ালে এই নির্মাণকাজ চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আত্রাই, ফকিরনী ও শিব নদীর বন্যার পানি থেকে মান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষায় “চলনবিল প্রকল্প পোদ্দার-ডি”-এর আওতায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। সম্প্রতি নূরুল্লাবাদ মৌজার জোতবাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পাউবোর অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে স্থানীয় মৃত সমতুল্যার ছেলে মো. আব্দুর রহিমকে চূড়ান্ত নোটিশ দেয় নওগাঁ পাউবোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ।
নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ফৌজদারি মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এসে অবৈধ স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙেও দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের কিছুদিন পরই আবারও একই স্থানে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এবার বাইরে থেকে যেন কেউ বুঝতে না পারে, সেজন্য চারপাশ টিন দিয়ে ঘিরে ভেতরে কংক্রিটের পিলার ও বাঁশের কাঠামো দিয়ে দ্রুতগতিতে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টিনের আড়ালে চলমান নির্মাণকাজ বাইরে থেকে সহজে চোখে পড়ে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজর এড়াতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “একবার ভেঙে দেওয়ার পরও একই জায়গায় আবার কীভাবে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি বোধগম্য নয়। বাইরে টিন দিয়ে ঘিরে ভেতরে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার জায়গায় বারবার অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাঁধের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এবং উচ্ছেদ অভিযানের পর পুনরায় অবৈধ দখলদারিত্বের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।