নওগাঁর মান্দা উপজেলার জবই বিল ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জলাশয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে মান্দা বিলের কোঁচরাঘাট এলাকায় পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু।
প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বিলে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন এবং এ ধরনের উদ্যোগকে মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্য খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য। সরকার জলাশয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জবই বিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শামশুল করিম, রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলী এবং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পাল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রভাষক এমদাদুল হক, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হিল্লোল, শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মান্দা বিলে মোট ১ হাজার ৭০০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ কেজি কার্প জাতীয় মাছ এবং ৯০০ কেজি দেশীয় প্রজাতির পোনা মাছ রয়েছে। এসব মাছ বিল ও আশপাশের জলাশয়ে অবমুক্ত করার ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আয়োজকরা জানান, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি, বিলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন করা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় জনগণ অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি উপকৃত হবে।
এ ধরনের উদ্যোগ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন