মো. আতিকুল ইসলাম,
স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সাত দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নজির ফরাজি (৩৫) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজ বাড়ির কাছের একটি পরিত্যক্ত খাল থেকে তাঁর এই নৃশংস মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রবিবার (৩১ মে, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেতাগী গ্রামের একটি কচুরিপানায় ভরা পরিত্যক্ত খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নজির ফরাজি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ফরাজির ছেলে।
স্থানীও ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ মে) সকালে নজির ফরাজি প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।
আজ বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই পরিত্যক্ত খালের কচুরিপানার মধ্যে হাত-পা শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে তাৎক্ষণিক দশমিনা থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় লাশটি ডাঙায় তোলে। এ সময় সেখানে উপস্থিত নিহতের ছোট ভাই রাসেল ফরাজি পরনের পোশাক ও চেহারা দেখে লাশটি তাঁর বড় ভাই নজিরের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের ভাই রাসেল ফরাজি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার ভাই মাঝে-মধ্যে কাউকে কিছু না বলে বাইরে চলে যেত এবং কয়েকদিন পর আবার নিজে নিজেই ফিরে আসত। তাই প্রথমদিকে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম না। তবে সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও যখন তাঁর সন্ধান পাইনি, তখন থেকেই অমঙ্গল আশঙ্কা করছিলাম। আজ বাড়ির কাছের খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া গেল। আমাদের শতভাগ ধারণা, কোনো শত্রু বা ঘাতক চক্র আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে হাত-পা বেঁধে খালে ফেলে দিয়েছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘাতকদের ফাঁসি চাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে আমাদের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।