নওগাঁর মান্দায় কিশোর গ্যাং ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’-এর কথিত দুই সদস্য সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান, ধারালো অস্ত্র, খেলনা পিস্তল, চাকু, মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সুলতান ও পারভেজ বেশ কিছুদিন ধরে ‘ব্ল্যাকহোল ক্লাব’ নামে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন। তাঁরা এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয় কিশোরদের ওই দলে যোগ দিতে চাপ দিতেন। যোগ না দিলে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তুরুকবাড়িয়া এলাকায় সাফিয়াল যাবের নিরব নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে সুলতান ও পারভেজের পক্ষ থেকে গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ২৬ আগস্ট রাতেও এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁরা আবার গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় মামলা করা হয়।
এরপর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা, মান্দা থানা, রাণীনগর থানা ও মান্দা সার্কেলের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানতে পারেন, সুলতান ও পারভেজ ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
পরে তাঁদের গতিরোধ করতে অন্য জেলার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। ৩১ আগস্ট রাতে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার ফুড ভিলেজ থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে অভিযান চালিয়ে সুলতান ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ ও মান্দার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা নিজেদের কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।
পরে ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে তাঁদের দেখানো মতে সুলতানের বাড়ির একটি কক্ষের চালের কার্নিশের ওপর থেকে কাগজে মোড়ানো অবস্থায় একটি ওয়ান শুটার গান, একটি ধারালো ডেগার ও একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—
- একটি দেশীয় তৈরি লোহার পিস্তল আকৃতির ওয়ান শুটার গান
- একটি ধারালো ডেগার
- একটি খেলনা পিস্তল
- একটি সুইচ গিয়ার ঈগল চাকু
- দুটি পুরোনো চাকু ও একটি খুর চাকু
- তিনটি মুঠোফোন
- নগদ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা
পুলিশের দাবি, সুলতান ও পারভেজ নিয়মিতভাবে মানুষের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তাঁদের কাছে সুইচ গিয়ার চাকু রাখতেন।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, সুলতান ও পারভেজের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় চৌকিদারের ছেলে হত্যা মামলাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন ও মারামারির ঘটনায় মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তাঁরা দুজনই প্রায় আট মাস কারাগারে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এই অভিযানে মান্দার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।