মোঃ সোহানুর রহমান
নিজেস্ব প্রতিবেদন:
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৬ নং মৈনম ইউনিয়নের বর্দ্দপুর গ্রামের আশ্রয়ণ ও আদর্শ পল্লীর প্রায় ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় তিন দিন ধরে অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি। রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণ এবং উজানের কয়েকটি উপজেলা থেকে নেমে আসা পানিতে আশ্রয়ণ পল্লীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লীতে পানি প্রবেশ শুরু করে। বর্তমানে পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এতে বসতঘর, রান্নাঘর ও চুলা পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নার কোনো সুযোগ না থাকায় শুকনো খাবারই তাদের একমাত্র ভরসা। হঠাৎ সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এলাকায় সাপ ও জোঁকের উপদ্রবও বেড়েছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী ও শিশুরা পানিতে নামতে ভয় পাচ্ছেন। সাপের আতঙ্কে অনেক পরিবারের রাত কাটছে নির্ঘুম।
আশ্রয়ণ পল্লীর বাসিন্দা বায়োজিদ হোসেন বলেন,
“বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে পল্লীতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এখন পুরো এলাকায় হাঁটুসমান পানি। রান্নার চুলা ডুবে গেছে, ঘরেও পানি উঠেছে। তিন দিন ধরে রান্না করা খাবার খেতে পারিনি। খুব কষ্টে দিন কাটছে।”
আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন,
“ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে আছি। স্থানীয় দু-একজন নেতা ছাড়া আর কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।”
এদিকে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, স্যালাইন ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, মৈনম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছার রহমান, মৈনম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সার্থী বলেন,
“এটি বন্যা নয়; হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা। খবর পাওয়ার পর শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় আজ পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে স্যালাইন, মোমবাতি ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে আরও বড় ধরনের মানবিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তারা স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।