মোঃ সোহানুর রহমান
নওগাঁ (মান্দা) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের জিওইল গ্রামের মমিনপাড়া থেকে রেজাউলের জমি পর্যন্ত ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এক কিলোমিটার এইচবিবি (সিসি ব্লক) সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে বক্স কাটিং ও বালু ভরাটের পর প্রয়োজনীয় কম্পেকশন ছাড়াই সিসি ব্লক বসানো, নিম্নমানের ব্লক ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির ঘাটতির কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলামের দায়িত্বশীল তদারকির অভাব এবং অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণবিধি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মান্দা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অভি এন্টারপ্রাইজ এবং অর্থায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম, ইমদাদুল, আব্দুর রশিদ, শাহিদুজ্জামান, আব্দুর রহমান, রফিকুল, সাদেকুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণকাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ কম্পেকশন যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই সিসি ব্লক বসানো হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি দেবে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি গাইডওয়াল নির্মাণেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
তাদের ভাষ্য, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও কাজ এখনো অসমাপ্ত। অথচ গুণগত মান নিশ্চিত না করেই দ্রুত কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের তৎপরতা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে নির্মিত এই সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও নিম্নমানের কাজের কারণে তা অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মানসম্মতভাবে পুনরায় নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জয় বলেন, সিডিউল অনুযায়ী এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তদারকিতেই কাজ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের সমস্যা থাকার কথা নয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলামের কাছে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ষএ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আশেকুল রহমানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।