হামিদুর রহমান,
তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর পৌরসদরের তালন্দ লব্যাতলা সংলগ্ন বিলে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৭টি গরু ও ২টি বুনো শিয়ালের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলাকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে তানোর এলাকায় কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানলে তালন্দ লব্যাতলা এলাকার বিলে একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, খবর দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি।
শুক্রবার সকালে মাঠে চরতে থাকা গরুগুলো অসাবধানতাবশত মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই একের পর এক গরু লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। একই সঙ্গে ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২টি বুনো শিয়ালেরও মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া গরুগুলোর মধ্যে রয়েছে হরিদেবপুর গ্রামের জিতেনের ১টি গাভী, টিপু রানীর ১টি গাভী, রমনীর ২টি গাভী, নিপেন (শুটকো) এর ২টি গাভী এবং তালন্দ গ্রামের মনজুরের ১টি গাভী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে গরুগুলো স্বাভাবিকভাবে মাঠে ঘাস খাচ্ছিল। হঠাৎ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি গরু ছটফট করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে অন্য গরুগুলো কাছে গেলে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৭টি গরু ও ২টি বুনো শিয়ালের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীলতা থাকলে এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হতো না। ঝড়ের পরপরই তারটি মেরামত বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে নিরীহ প্রাণীগুলোর জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিকরা জানান, তাদের কয়েক লাখ টাকার সম্পদ মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই গরু পালন করে সংসার চালান। এক ক্ষতিগ্রস্ত খামারি বলেন, “আমরা গরু পালন করে সংসার চালাই। বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার কারণে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।”
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার কে নেবে? স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি যথাসময়ে ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না। ফলে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়লে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং জনগণকে সতর্ক করা বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে বিবেচনায় আসতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উপজেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন, খুঁটি ও তারের নিয়মিত পরিদর্শন এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকার, উপজেলা প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মানবিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানিও ঘটতে পারে।